Demo
নঈম নিজামঃ আপনজনদের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা। সেনাপতি মীর জাফরের বেঈমানিতে বাংলার স্বাধীনতা বিলীন হয় ইংরেজ বেনিয়াদের হাতে।
ভারতবর্ষে ব্যবসা করতে বাংলা এসে ব্রিটিশরা দেখলো পুরো দেশটা দখল করা সম্ভব । বাংলার মানুষ খুব সহজে বদলে যায়। বাংলা দখল নেওয়া কোন ঘটনা না। বাংলা দিয়ে শুরু করলে বাকীটা হয়ে যাবে। আগে দরকার ঘাটি।
ইংরেজরা নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলীকে ম্যানেজ করেন। ক্ষমতার ভাগাভাগির বিরোধে নবাবের খালা ঘষেটি বেগম বিপক্ষে চলে যান। তিনি ষড়যন্ত্রের হাত মেলান সেনাপতি মীর জাফর, ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ, উমি চাঁদের সঙ্গে। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে তারা কাজ শুরু করেন।
মেটিকুলাস ডিজাইন অনুযায়ী পলাশীর যুদ্ধের ময়দানে যান প্রধান সেনাপতি মীর জাফর। নবাবের সৈন্য সংখ্যা ৫০ হাজার। ইংরেজদের তিন হাজার। মীর জাফর কাছের সেনাদের বলে দেন তারা যেন নিরব থাকেন । তিনি ভুলে যান শপথ, নবাবকে দেওয়া কথা ও দেশের জন্য অঙ্গীকার।
বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীনতা রক্ষায় মোহন লাল ও মীর মদন লড়ে গেলেন। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে ইংরেজদের পরাজয় ছিল নিশ্চিত । পরিস্থিতি বুঝে ময়দানে নিরব থাকা সেনাপতি মীর জাফর নিজ ক্ষমতাবলে যুদ্ধ বন্ধ করলেন। আর তখনই হঠাৎ ইংরেজরা আক্রমন চালিয়ে পরাজিত করলো নবাবের সেনাদের। তারা বন্দী করলো মীর মদনকে। হত্যা করলো মোহন লালকে।
ডিজাইন অনযায়ী সাময়িক ক্ষমতা বসানো হয় মীর জাফরকে। পুতুল সরকার ক্ষমতা নিয়ে নবাব সিরাজকে আটক ও হত্যা করে। নবাবের মৃতদেহ হাতির পিঠে চড়িয়ে সারা শহর ঘোরানো হয়। সেই সময় কিছু মানুষ উল্লাস করছিলেন, আবার কেউ গোপনে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছেন। কেউ বুঝতে পারেননি তাঁদের স্বাধীনতা শেষ, সব কিছু লুটে নিয়েছে ইংরেজ বেনিয়ারা।
ফেইস বুক থেকে।
নঈম নিজাম, সাংবাদিক
Leave A Reply

সাইটম্যাপ

যোগাযোগের ঠিকানা