Demo
শরিফুল হাসান: সাবেক একজন শিক্ষক, একজন মন্ত্রী ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে নিজ বাড়ি থেকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে যখন দুই হাতে মোটা দড়িবেঁধে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয় তখুনি তো তিনি মারা যান, তাই না? হ্যাঁ, কাগজে কলমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন আজ মারা গেছেন। বলতে গেলে বিনা চিকিৎসায়!
আজ শনিবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা বলছেন তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, ‘সকালে অসুস্থ অবস্থায় রমেশ চন্দ্র সেনকে হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে ব্রট ডেথ ঘোষণা করেন।’
এই দেশের কারাগারগুলোতে বিনা চিকিৎসায় কিংবা যথাযথ চিকিৎসার অভাবে কতো মানুষ এ পর্যন্ত মারা গেছেন আমার জানা নেই! আইন সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই কমপক্ষে ১০৭ জন ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন।
অসংখ্যবার লিখেছি গোটা পৃথিবীর বিনিময়ে একজন মানুষের জীবন পাওয়া যায় না। আর এই দেশে কখনো ক্রসফায়ার কখনো গুম কখনো মব, আবার কখনো মিথ্যা মামলায় কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। এগুলো সবই মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
আচ্ছা সাবেক একজন মন্ত্রী, পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, একজন শিক্ষক যথাযোগ্য চিকিৎসাটা পেতে পারতেন তাই না। তিনি কিন্তু মীর্জা ফখরুলের আসনে পাঁচবার জয়ী হয়েছিলেন।‌ মানুষের ভালোবাসা না থাকলে বারবার জিততেন না নিশ্চয়ই।
আচ্ছা এমন একজন মানুষ কী যথাযথ চিকিৎসা পেতে পারতেন না? আচ্ছা সুনির্দিষ্ট কোন অপরাধে তিনি জেলে ছিলেন জানেন কী? গণমাধ্যমের খবর বলছে, ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এলাকার বাড়ি থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক যে দুই হাতে মোটা দড়িবেঁধে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়েছিল। অথচ তিনি পালাননি। বাড়িতেই ছিলেন! তিনি ভেবেছিলেন তিনা কোনো অন্যায় করেননি। কিন্তু তারপরও তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে নেওয়া হয়। পরে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। পরে হয়তো আরো মামলা হয়েছিল।
আচ্ছা ৮৬ বছরের একজন বৃদ্ধকে জামিন না দিয়ে দেড় বছর ধরে কেন জেলে রাখা হলো? তিনি কী পালিয়ে যেতেন? আর দড়ি বেঁধে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করার পর এমন অসম্মান করার পর তো তিনি মানসিকভাবে মরে গিয়েছিলেন। কারণ ৫ আগস্টের পর তাঁর শহরের বাড়ি, গ্রামের বাড়ি কয়েকদফা লুট হয়েছে, আগুন লাগানো হয়েছে। কোনো অপরাধ না করেও পুরো পরিবার প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
আজকে রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শোকবার্তায় বলা হয়, ‘ঠাকুরগাঁও- ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী , বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন আজ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক জানাচ্ছি। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই মানুষটাকে আমি বেশ পছন্দ করি। কিন্তু তিনিও কী তাঁর এলাকায় মব থামাতে পেরেছিলেন? আচ্ছা এই যে ঘৃণা আর সহিংসতার রাজনীতি জানি না এই বাংলাদেশে কবে এই রাজনীতি শেষ হবে। কবে বোধ ফিরবে সবার? কবে সব দলের সব মানুষের মনে হবে অনেক হয়েছে।‌ এবার ঘৃণার রাজনীতি মিথ্যার রাজনীতি শেষ হোক। আচ্ছা আর কবে এই বোধ জাগবে?
শরিফুল হাসান, লেখক ও সাংবাদিক
Leave A Reply

সাইটম্যাপ

যোগাযোগের ঠিকানা