নঈম নিজাম: ইতিহাসের অমর অধ্যায় জুড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কিছু নাম জড়িয়ে রয়েছে। তারা হলেন, সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম রব, শাজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী, আবদুল কুদ্দুস মাখন। মুজিব বর্ষের নামে বছর জুড়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণে জীবিত কারও ঠাঁই ছিল না। একটি অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার আলম, পলক, বিপুরা বক্তা। শ্রোতার আসনে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ। এক পর্যায়ে তোফায়েল আহমেদ বের হওয়ার চেষ্টা করলে এসএসএফ তাকে আটকালেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী তখনো অনুষ্ঠানে আছেন। আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন নবীন নেতা এগিয়ে গিয়ে তোফায়েল আহমেদকে বের হতে সহায়তা করেন। বের হয়ে তিনি ফোন করলেন আমাকে। ঘটনাটি বলে আক্ষেপ করলেন।
ইতিহাসের অমর অধ্যায়ে সুপ্রিম লিডার একজন ছিলেন। যুদ্ধ চলাকালীন আগে পরের বাকি সহযোদ্ধাদের স্বীকৃতি না দেওয়ার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে । আরও দিয়ে যেতে হবে।
সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, শাজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকীর কাছ থেকে ইতিহাসের অনেক অজানা অধ্যায় জেনেছি। শুনেছি।
৩ মার্চ, ১৯৭১। পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ ঘোষণা করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী। উত্তাল জনসমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
এই ইশতেহারে ছিলো, বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। এতে তুলে ধরা হয়, বাঙালির ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পূর্ণ বিকাশ, বৈষম্যের নিরসন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা। সেই দিন স্বাধীন দেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি প্রস্তাব করা হয়। ঠিক করা হয়, বাংলাদেশের পতাকা হবে সবুজ জমিনের মধ্যে লাল সূর্য, মাঝখানে সোনালি মানচিত্র।
এই সভায় শেখ মুজিব ডাক দেন অসহযোগ আন্দোলনের। তিনি নির্দেশ দেন, ‘আমি যদি নাও থাকি, আন্দোলন যেন না থামে।’
নঈম নিজাম, সাংবাদিক

