জাকির হোসেন মারুফঃ আমাদের দল আওয়ামী লীগের বড় সমস্যা কি জানেন, দীর্ঘদিন থেকে দলে আদর্শবান নেতাকর্মী সৃষ্টি করা যায়নি।
পরিবারতন্ত্র, উত্তরাধিকার, আত্মীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, অনুপ্রবেশ,আমলা নির্ভর রাজনীতি,কোটারী রাজনীতি (আঞ্চলিকতা,ধর্ম,নারী) অনুসরণ করতে গিয়ে বছরের পর বছর এইসব অনাধুনিক, অনুপযোগী, পশ্চাৎপদ রাজনীতির চর্চা আমাদের সংগঠনকে দুর্বল করে দিয়েছে। মানুষের কাছে আমরা ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলাম।বিগত ২ বছরে রাষ্ট্রে চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার কারণে এখন আবার আমাদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের কারণে নয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি সকল লড়াই, সংগ্রাম, বিকাশ ও সংকটে প্রবলভাবে বিরাজমান। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছেন বঙ্গবন্ধু পরিবার।এই পরিবার ঐক্যের প্রতীক।সুতরাং তাঁদের সন্তানগণ ব্যাতীত বাংলাদেশের কোথাও উত্তরাধিকারের রাজনীতি চর্চার প্রয়োজন নেই।তাই বলে আমি বলছি না কারো পরিবারের পূর্বসূরীরা অতীতে রাজনীতি করলে তারা পরবর্তীকালে রাজনীতি করতে পারবে না। তাঁদেরকে দলের অন্যান্য নেতাকর্মীদের মতোই প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজনীতিতে আসতে হবে।
জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ ডিজিটাল বাংলাদেশ।এই ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ (প্রায় ১৫ কোটি) সারা পৃথিবীর সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে।আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান,শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড, গণতন্ত্র, মানবাধিকার,আইনের শাসন,সুশাসন,বর্ণবাদ বিরোধিতা, অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা,আন্তর্জাতিক রাজনীতি , আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এমন কোনো দিক নেই যে বিষয়ে মানুষ এখন আর সচেতন নয়। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের কোনো অপপ্রচার জনগণ গ্রহণ করছে না। আমার ৭৬ বছরের মা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের যুক্ত হয়ে পড়েছেন ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রতিদিন কারো না কারো সাথে তাঁর কথা হচ্ছে। আমার ১৩ বছরের কন্যাও সারা পৃথিবীর খোঁজ খবর রাখেন। অর্থাৎ বিভিন্ন বয়সের নাগরিকের কানেক্টিভিটি দিয়ে আমি বোঝাতে চাইছি জনগণ এখন অনেক সচেতন।ইচ্ছে করলেই যা ইচ্ছে তাই করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
যে কারণে সাম্রাজ্যবাদের দালাল ইউনুস ও জুলাই জঙ্গিরা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি কেউ পার পাচ্ছে না।
সুতরাং জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে জনগণের মনোজগতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে।আমরা যদি তাঁদের বৈশ্বিক চিন্তা ধারা না বুঝে তাঁদের ভাষায় কথা বলতে না পারি এবং সেই অনুযায়ী ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হই তবে আমাদের সংগঠনের প্রতি তাঁরা উৎসাহ হারাবেন। শুধু তাই নয় আমাদের দলে নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হবে। যোগ্যতা, যোগ্যতা, একমাত্র যোগ্যতাই হতে হবে নেতৃত্ব অর্জনের মাপকাঠি।
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের কারণে দলে সময় দিতে পারেননি।যারা দলে দায়িত্বে ছিলেন তাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা সীমাহীন।
সফল হলে যেমন পুরুস্কৃত করতে হবে তেমন ব্যর্থ হলে বিদায় নিতে হবে।৫ই আগস্টের এতো বড় ব্যর্থতার পর সকল স্তরে পুরনো নেতৃত্ব অকার্যকর ও অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছেন। তাঁদের বিদায় নিতে হবে।
আমাদের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েই সাম্রাজ্যবাদী দেশী বিদেশী শক্তি ও ষড়যন্ত্রকারী জুলাই জঙ্গিরা সফল হয়েছে।
দল পুনর্গঠনের পুরনো প্রক্রিয়া বহাল রেখে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। নীতি ও আদর্শ ঠিক রেখে প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনশীলতা ধারণ করতে পারলেই একটি রাজনৈতিক দল গতিশীল হয়ে ওঠে।প্রাথমিক লক্ষ্য হবে এতো দিন যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অবহেলিত ছিলেন তাঁদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে।
পুরনো নেতৃত্ব অতীতে যতো যোগ্যতাই প্রদর্শন করুন না কেন সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি বিদ্যমান বাস্তবতায় রাষ্ট্র ও সমাজে তাঁদের কোনো প্রভাব নেই।হয়তো দুই,চার,পাঁচজন ব্যতিক্রম কেউ কেউ আছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম তো আর উদাহরণ হতে পারে না।তারুণ্যের জয়গান গাইতে হবে।তরুণদের এগিয়ে দিতে হবে। তারুণ্য মানেই গতিময়তা।এই তারুণ্যের মাপকাঠি শুধু বয়সের ফ্রেমে নয় ,তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য যারা ধারণ করেন তারাই তরুণ।তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য হলো নীতি, আদর্শে অবিচল,অকুতোভয়, সংগ্রামী,গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মী হবে,দাসত্ব করবে না,দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে,জনগণের প্রতিটি অধিকার রক্ষায় হবে সচেতন,সংবেদনশীল।
অতএব তারুণ্যই শক্তি। পরিবর্তনশীলতা মানেই গতিময়তা ।
এইটাই দুনিয়ার নিয়ম।
জাকির হোসেন মারুফ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক , বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।


